আট চোখের দুরন্তপনা – জাকির আবু জাফর Aat-Chokher-Durontopona

বইয়ের নামঃ আট চোখের দুরন্তপনা

লেখকঃ জাকির আবু জাফর

প্রকাশনীঃ কিশোর কন্ঠ

প্রকাশকালঃ ২০১১

পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৫৪

সাইজঃ ১ এমবি

ফরম্যাটঃ পিডিএফ

টেক্স ফরম্যাটঃ এইচডি স্ক্যান

রেজুলেশনঃ ৬০০ ডিপিআই

বইয়ের ধরণঃ কিশোর গল্প

আট চোখের দুরন্তপনা - জাকির আবু জাফর Aat-Chokher-Durontopona

Continue to Download

or

পিয়ালদের বাড়িটি প্রায় জঙ্গলাকৃতির। ঘন গাছগাছালিতে ঘেরা চারপাশ, বিশাল বাড়ির মাঝখানে পিয়ালদের আটচালা ঘর। ঘরের খানিক পেছনেই প্রায় দীঘির মতো একটি পুকুর। শান বাঁধানো ঘাট। পুকরের চারপাশও গাছে ভরা। যেনো সবুজ দেয়াল। নানা রকম পাখির বাসা গাছের ডালে ডালে। চেনা অচেনা ফুলে ফলে ভরা বাড়িটি পিয়ালের অসম্ভব ভালোবাসার। অবশ্য ভয়ও জাগে। রাত হলেই নানারকম জীবজন্তুর হাকডাক। বড় বড় বাদুরের ভয়ঙ্কর ছোটাছুটি। ভূতুড়ে পেঁচার ডাক। আর খেঁক শেয়ালের হুক্কাহুয়া। সেই সাথে কুকুরের গলাফাটা চিৎকার। সবকিছু মিলে ভয় জমে থাকে রাতের বেলা। সকাল হলেই নানারকম মিষ্টি পাখির গান। কোথাও দোয়েলের শিস। কোথাও ঘুঘুর একমনে গেয়ে যাওয়া দারুণ আনন্দময়।
বাড়িটি কিনেছিলো পিয়ালের দাদা। দাদা এখন নেই। পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। পিয়াল তখন শিশুটি প্রায়। দাদার কথা খুব মনে পড়ে। অনেক আদর করতেন দাদা। সাথে নিয়ে বাড়িটি ঘুরে বেড়াতেন। বিশেষ করে বিকেল বেরা বাড়ির চারপাশ ঘুরে আসতেন একবার। এ সময় দাদা ফল কুড়াতেন। আতা, পেয়ারা, পেপে, গাব, কলা আরো কত ফল। এমনকি শুকনো নারিকেল পড়ে থাকতো গাছের নিচে। নারিকেলও কুড়াতেন দাদা। কী যে আনন্দময় সময়টা কাটতো দাদার সাথে। আজ দাদা নেই। দাদার মুখটি খুব মনে পড়ে পিয়ালের। বাড়ি ঘুরে এসে ঠিক সন্ধ্যার আগে আগে শান বাঁধানো ঘাটে বসতেন দাদা। কতরকম গল্প বলতেন। ফুল চেনাতেন ফলও চেনাতেন। বলতেন গাছের নাম। পাখির নাম। কিন্তু ঘাটে বসলেই দাদা কেমন উদাসী হয়ে যেতেন। পুকুরের শান্ত পানির দিকে চেয়ে থাকতেন এক দৃষ্টিতে। মাঝে মাঝে হঠাৎ চোখ তুলতেন আকাশে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফিরে আসতেন পানির দিকে। ব্যাপারটি খারাপ লাগতো পিয়ালের। একদিন না বুঝেই জিজ্ঞেস করলো- দাদা তোমার অসুখ?

এ রকম আরো বই

Write a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *